সবজি রান্না

বিশ্ব ডিম দিবসে ডিমের নানান পদ

বিশ্ব ডিম দিবসে ডিমের নানান পদ

কথায় আছে ‘গরম হোক বা ঠাণ্ডা রোজ খাও আণ্ডা’ ডিমের উপকারিতা এতো যে আমাদের রোজ ডিম খাওয়া উচিৎ কারণ দুধের পর পুষ্টি গুণের দিক দিয়ে ডিম সবার চেয়ে এগিয়ে। আর ডিমের উপকারের কথা তো আমরা সবাই জানি। রান্না করা সহজ। ঝাল মিষ্টি যে কোনো স্বাদেই রান্না করা যায়।

আর সাস্থের কথা চিন্তা করলে দেখা যায় ডিম মস্তিষ্কের জন্য উপকারি, হাড় মজবুত, ওজন নিয়ন্ত্রন, নখ ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিসহ আমাদের দেহের অনেক উপকার করে থকে। এছাড়া ডিম সহজেই হজম হয়। বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আপনাদের জন্য আমাদের আয়োজনে থাকছে ডিমের নানান পদ।

পোস্তা দানায় ডিম

উপকরণ

চারটা ডিম, পোস্তদানা চার টেবিল চামচ, পিঁয়াজ তিনটা কুচি করা, আদা বাটা এক চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো এক চা চামচ, মরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ দুটো কুচি করা, তেজাপাতা দুটো, চারটা এলাচ লবঙ্গ চারটা, এক টুকরো দারুচিনি, ছয় টেবিল চামচ সর্ষের তেল এবং লবণ স্বাদমতো

প্রণালি

পোস্তদানা ভিজিয়ে রাখুন এক ঘন্টা। এরপর কাঁচামরিচের সাথে বেটে নিন। ডিমগুলোকে হার্ড বয়েল অর্থাৎ ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। যেন শক্ত হয়ে থাকে। এরপর লম্বালম্বি অর্ধেক করে কাটুন। এবার লবণ, হলুদ, মরিচ গুঁড়ো সাবধানে মাখিয়ে নিন যাতে ডিমগুলো ভেঙে না যায়। তারপর চ্যাপ্টা একটি ফ্রাইপ্যানে ডিমের কাটা অংশ নিচের দিকে দিয়ে ডিমগুলোকে ভেজে নিন। একদিক ভাজা হলে উল্টে ওপর দিকটি ভেজে নিন।

এরপর উঠিয়ে রাখুন। এরপর ওই একই প্যানে বাকি তেলটুকু দিয়ে দিন। তেল গরম হলে এতে দিন তেজপাতা, এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি এবং ৩০ সেকেন্ড নেড়েচেড়ে ভেজে নিন। এরপর এতে দিন পিঁয়াজ, রসুন এবং আদা। পিঁয়াজ হালকা ভাজা ভাজা হয়ে এলে হলুদ গুঁড়ো, মরিচ গুঁড়ো এবং আধা কাপ পানি দিন।

জ্বাল কমিয়ে কষাতে থাকুন যাতে পিঁয়াজ পানিতে নরম হয়ে আসে। মশলার ওপর তেল চলে এলে পোস্তদানা বাটা দিয়ে দিন। ভালো করে কষিয়ে নিন, তেল ওপরে উঠে আসলে ঝোলের মাঝে ভাজা ডিমগুলো ছেড়ে দিন। এক মিনিটের মতো ঝোলে রান্না করুন। চুলা বন্ধ করে সার্ভিং ডিশে সাজিয়ে নিন। গরম গরম ভাত অথবা পোলাউয়ের সাথে পরিবেশন করুন।

 

এগ স্যান্ডউইচ

উপকরণ

পাউরুটি চার পিস, ক্যাপসিকাম কুচি দুই টে. চামচ, লেটুস পাতা। সেদ্ধ ডিম দুটি, মেয়োনেজ চার চা চামচ, টমেটো একটি, পেঁয়াজ রিং করে কাঁটা অল্প, গোলমরিচের গুঁড়া স্বাদমতো, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি

প্রথমে একটি বাটিতে ডিম, মেয়োনেজ, লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে নিন। পাউরুটির ওপর এই মিশ্রণ ভালো করে ছড়িয়ে দিন। এর ওপর টমেটো কুচি, পেঁয়াজ রিং, ক্যাপসিকাম ও লেটুস পাতা দিন। এবার অন্য একটি পাউরুটি দিয়ে ঢেকে দিন। অল্প আঁচে সামান্য ঘি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড পাউরুটির দুই পাশ সেঁকে নিন। ব্যস, খুব সহজেই তৈরি হয়ে গেল স্বাস্থ্যকর এগ স্যান্ডউইচ।

 

ডিম বিরিয়ানি

উপকরণ

কাপ বাসমতি চাল, টি বড় ডিম, একটি পেঁয়াজ কুচি, ১০ টি কাঁচা মরিচ ফালি করা, একটি তেজপাতা, ৪টি লবঙ্গ, আধা চা চামচ মরিচের গুড়া, একটা দারুচিনি, এক চা চামচ আদা ও রসুন বাটা, ১ চা চামচ পোলাও-এর মসলা, দুই টেবিল চামচ তেল, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি

প্রথমে ছয়টি ডিম সেদ্ধ করে ছিলে তেল দিয়ে ভেজে নিন। এরপর বড় প্যানে তেল গরম করে সব মসলা একসাথে দিয়ে দিন। কয়েক সেকেন্ড পর এর মধ্যে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আদা-রসুন বাটা দিন। এগুলো লাল রং না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। এরপর দুটো ডিম ভেঙ্গে এর মধ্যে দিন। পরে চাল দিয়ে মিনিট খানেক ভেজে নিয়ে এতে লবণ দিন। এরপর সিদ্ধ ডিমগুলো এর মাঝে ছেড়ে দিয়ে চার কাপ পানি দিন।

চাল সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা দিয়ে রাখুন। চাল আধা সিদ্ধ হয়ে আসলে পোলাও-এর মসলা, লেবুর রসের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন হাঁড়িতে দিয়ে নেড়েচেড়ে দিন। আবার পানি ফুটানো পর্যন্ত ঢেকে রাখুন। বিরিয়ানি হয়ে আসলে এর উপর ধনে পাতা ছিটিয়ে দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। এরপর গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

ডিমের কোরমা

উপকরণ

সিদ্ধ করা ডিম ৫টি, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, আদাবাটা আধা টে. চামচ, রসুনবাটা আধা টে.চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা চামচ, ভাজা জিরাগুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচগুঁড়া আধা চা চামচ, টক দই ৪ চা চামচ, নারিকেলের দুধ ১ কাপ, ঘি ১ টেবিল-চামচ, কাঁচামরিচ ১০টি বা স্বাদ অনুযায়ী, তেজপাতা ২টি, এলাচ ৩টি দারুচিনি ২টি, কিশমিশ ৩,৪টি, তেল ১/৪ কাপ।

প্রনালি

প্রথমে পরিবেশনের জন্য কিছু পেঁয়াজ ও বেরেস্তা রেখে, বাকি বেরেস্তার সঙ্গে দই দিয়ে ব্লেন্ডারে মিশিয়ে নিন। তেল একটু গরম করে সিদ্ধ ডিমগুলো ভেজে আলাদা রাখুন। এবার এই তেলেই তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি দিয়ে পেঁয়াজ হালকা ভেজে নিন। এরপর আদাবাটা, রসুনবাটা আর লবণ দিন। ভাজা ভাজা হলে ধনেগুঁড়া, ভাজা জিরাগুঁড়া ও মরিচগুঁড়া দিয়ে পানি দিন। সঙ্গে পেঁয়াজ-বেরেস্তা, দইয়ের মিশ্রণ, নারিকেলের দুধ, কাঁচামরিচ ফালি দিয়ে দিন। ভাজা ডিম সঙ্গে ঘি এবং কিশমিশ দিয়ে ঝোল হালকা ঘন হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে থাকুন। রান্না শেষ হলে নামিয়ে বেরেস্তা ছড়িয়ে পোলাউ অথবা ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

 

ডিম বেগুনের খাগিনা

উপকরণ

বেগুন- ২ টা বড়, ডিম- ১ টা, কাঁচামরিচ- স্বাদমত,  পেঁয়াজ (মাঝারি)- ২ টা (একটু মোটা করে কাটা), ধনেপাতা- ২ টেবিল চামচ, সরিষার তেল- ২ টেবিল চামচ, লবণ- স্বাদমতো

প্রণালি

প্রথমে বেগুন ধুয়ে মুছে নিন। তারপর হাতে একটু তেল নিয়ে বেগুনের গায়ে মাখিয়ে দিন। এরপর বেগুন চুলায় পোড়াতে দিন। পোড়ানো হয়ে গেলে খোসা ছাড়িয়ে নিন (পানিতে ভিজিয়ে নিলে সহজেই খোসা ছাড়ানো যায়)। এরপর একটি পাত্রে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, অর্ধেকটা তেল, ধনেপাতা, ও লবণ ভর্তার মতো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি থেকে পানি বেরিয়ে এলে এর সাথে বেগুন দিয়ে মাখুন।

ভালোভাবে মাখতে হবে যেন বেগুনে আঁশআঁশ না থাকে। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হলে একটা ডিম ভেঙে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর চুলায় কড়াইতে বাকি তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হয়ে এলে মিশ্রণটি ঢেলে দিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন এবং ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। ৬-৭ মিনিট পর তেল বেরিয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন।

 

ডিমের পুডিং

উপকরণ

দুধ পৌনে ১ লিটার,  চিনি স্বাদমতো, ডিম ৪ টি, আধা টেবিল চামচ ঘি বা মাখন গলিয়ে নেয়া

পদ্ধতি

ফুল ক্রিম দুধ নিয়ে প্যানে জ্বাল দিয়ে অর্ধেক পরিমাণে করে ফেলুন এবং নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দিন। একটি বাটিতে ডিম নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে এতে চিনি দিয়ে ফেটাতে থাকুন। খুব ভালো করে ফেটানো হয়ে গেলে এতে দিন ঘি বা মাখন। আরও খানিকক্ষণ ফেটিয়ে নিন। একটি পুডিং বাটি অথবা আপনি যেটাতে পুডিং বানাতে চান সেই বাটি নিয়ে কিছু চিনি তলায় ছড়িয়ে দিন। প্রায় ১ চা চামচ পরিমান চিনি বাটিতে ছড়িয়ে কয়েক চামচ পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। চিনি গলে মিশে শিরা তৈরি হয়ে লাল হয়ে ক্যারামেলের মতো তৈরি হয়ে যাবে। বাটিতে ক্যারামেল বসে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে বাটিটি ঠাণ্ডা করুন। এবার ডিম-চিনির মিশ্রনে ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া দুধ ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন।

মনে রাখবেন যদি দুধ সামান্য গরম থাকে তবে ডিমকে জমাট করে ফেলবে। তাই দুধ খুব ঠাণ্ডা করে নিয়েই মেশাতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া পুডিং বাটিতে পুরো মিশ্রণটি ঢেলে দিন। একটি বড় সসপ্যান পানি দিয়ে চুলায় দিন। পানি যেন পুডিং বাটির অর্ধেক হয়। সসপ্যান ভালো করে ঢেকে উপরে ভারী কিছু দিয়ে চাপা দিন। পানিতে বলক আসলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। ২০-২৫ মিনিটের মধ্যেই পুডিং হয়ে যাবে, তাই সতর্ক থাকুন। চুলা থেকে নামানোর আগে একটি কাঠি দিয়ে পুডিং ঠিকমতো হয়েছে কিনা পরীক্ষা করে নিন। এরপর পুডিংএর বাটি একটু ঠাণ্ডা হলে একটি ছড়ানো প্লেটে উল্টো করে দিন। এতে পুডিংয়ের ক্যারামেল অংশটি উপরে আসবে। ব্যাস হয়ে গেল সুস্বাদু পুডিং।

'সবধরনের ভিডিও রেসিপি দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ!'


বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রমণী



Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বোচ্চ পঠিত

BD Romoni YouTube Channel
To Top