জানা-অজানা

দুই বন্ধু মিলে শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংস কায়দায় হত্যার যে বর্ননায় আঁতকে উঠবে পাষণ্ডেরও আত্মা !

দুই বন্ধু মিলে শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংস কায়দায় হত্যার যে বর্ননায় আঁতকে উঠবে পাষণ্ডেরও আত্মা !

চট্টগ্রামে সালমা আক্তার নামের চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া এক শিশুর নৃশংসভাবে খুন হওয়ার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এর আগে গত ১৫ জুন ভোরে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলায় নঈমিয়া ভবন নামে একটি মার্কেটের তিনতলায় ময়লার স্তূপে কাঠের বাক্সভর্তি সালমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আমাদের এনড্রয়েড মোবাইল এপস। বাছাই করা সেরা ১০১ পিঠার রেসিপি। ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুণ!

সেসময় প্রাথমিকভাবে শিশুটির পরিবার ও পুলিশ ধারণা করেছিল, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

নৃশংস ঘটনার শিকার সালমা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। তার বয়স ছিলো ৯বছর ।

এই ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ইমন হাসান (২০) নামে এক সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেফতারের পর আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে সে।

পুলিশ পরিদর্শক ওয়ালিউদ্দিন আকবর জানান, ইমনকে গত বুধবার রাতে নগরীর বহদ্দারহাট বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরানের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আসামীর দেয়া জবানবন্দীর উধৃতি দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক ওয়ালিউদ্দিন আকবর জানান, জবানবন্দিতে ইমন জানিয়েছে, শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে তার জীবন নামের এক বন্ধু মিলে ধর্ষণের পর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে । ইমনের স্বীকারোক্তির পর পুলিশ আরেক খুনী জীবনকে (২০) গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালিউদ্দিন আকবর।

পুলিশ জানিয়েছে, ইমন নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে মাছ কাটার পেশায় জড়িত। ওই এলাকায় লোহা কলোনিতে তার বাসা। জীবনের বাসাও লোহা কলোনিতে। ধর্ষণের ঘটনাস্থল নঈমিয়া ভবনের নিচতলায় জোয়াং করপোরেশন নামে একটি সেনিটারি দোকানের কর্মচারি জীবন। নঈমিয়া ভবনের পাশে শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটিতে সালমাদের বাসা। একই এলাকার হওয়ায় জীবনের সঙ্গে সালমার পরিচয় ছিল। তবে ইমনের সঙ্গে পরিচয় ছিল না।

আসামীর দেয়া জবানবন্দীর উধৃতি দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক ওয়ালিউদ্দিন আকবর আরও জানান, গত ১৩ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সালমাকে প্রলোভন দেখিয়ে নঈমিয়া ভবনের তিনতলায় পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে যায় জীবন।সেখানে পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকে ছিল ইমন। নির্জন ওই স্থানে প্রথমে জীবন সালমার মুখ চেপে ধর্ষণ করে। এরপর ইমন তাকে দ্বিতীয় দফা ধর্ষণ করে। ধর্ষকদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সালমা কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তার বাবা ও মামাকে জানিয়ে দেবে বলে জীবন ও ইমনকে জানায়।

এসময় ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তারা সালমার মাথার হিজাব গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ময়লার স্তুপে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর জীবন ওই ভবনের নিচতলায় দোকানে চলে যায়।ইমন স্বাভাবিকভাবে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে চলে যায়। গভীর রাতে আবারও দুজন একটি কাঠের বাক্স এনে বাক্সে লাশ ঢুকিয়ে ময়লার ভেতরে ফেলে যায়।

ফাইল ছবিতে ভয়ংকর দুই পশুর হাতে নৃশংস খুন হওয়া নিষ্পাপ শিশু সালমার ‘শুন্য দৃষ্টিতে একরাশ বোবা প্রশ্ন’ কি দেখতে পান কেও ? সালমার এমন দৃষ্টি কি অনন্তকাল এই সমাজের কাছে খুজে বেড়াবে, কী ছিলো তার অপরাধ’! অথবা ছোট্ট সালমার এই ‘অবাক বিস্ময় দৃষ্টি’ কী পারবে, প্রতিনিয়ত দংশিত করতে এই সমাজের বিবেককে ?
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাদুরতলার একটি প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সালমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। বিষয়টি পাঁচলাইশ থানায় অবহিত করেন সালমার বাবা।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে নঈমিয়া ভবনের উপরে একটি কাঠের বাক্স থেকে দুর্গন্ধ বের হবার খবর আসে পুলিশের কাছে। এরপর পুলিশের টিম গিয়ে কাঠের বাক্স খুলে সালমার মরদেহ দেখতে পায়।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়।

সেসময় পরিদর্শক ওয়ালি উদ্দিন জানান, কাঠের বাক্সের ভেতরে মৃত সালমাকে বসিয়ে রেখে সেটি ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিলো । এতে পুলিশ ধারণা করে মঙ্গলবারই তাকে হত্যা করা হয়েছে। নঈমিয়া ভবনের তিনতলা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সাধারণত সেখানে কেউ যেতনা বলে জানান ওয়ালি উদ্দিন।

সালমার বাবা যমুনা বাস সার্ভিস নামে একটি দূরপাল্লার পরিবহন কোম্পানি কর্মকর্তা। তাদের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

'সবধরনের ভিডিও রেসিপি দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ!'


বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রমণী



সর্বোচ্চ পঠিত

BD Romoni YouTube Channel
To Top