জানা-অজানা

মায়ের স্যানিটারি প্যাডই শিশু আনোয়ারের বালিশ

মায়ের স্যানিটারি প্যাডই শিশু আনোয়ারের বালিশ

কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক জনবসতি। তবে সেখানে নেই কোনো বাংলাদেশির বাস। ছোট ছোট ঝুপড়ি আর তাঁবু খাটিয়ে গাদাগাদি করে থাকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে এসেছে তারা।

আমাদের এনড্রয়েড মোবাইল এপস। বাছাই করা সেরা ১০১ পিঠার রেসিপি। ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুণ!

কুতুপালংয়ের শরণার্থী শিবির ঘুরে দেখলে খুঁজে পাওয়া যাবে মানুষের হাজারো অসহায়ত্বের কথা। শোনা যাবে অনেক শিশুর কান্নার শব্দ। তাদের অনেকের জন্ম মিয়ানমারে, অনেক শিশুই প্রথম চোখ মেলে দেখেছে প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ছুটছেন মা, আবার অনেক শিশুর জন্ম বাংলাদেশের কাদা-জলেই।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এমনই এক রোহিঙ্গা শিশুর কথা উঠে এসেছে বিবিসির প্রতিবেদনে। শিশুটির নাম আনোয়ার সাদিক।  সাদিক যখন গর্ভে, তখন মা মোহসেনা পালিয়ে আসেন বাংলাদেশে। দুর্বল শরীর নিয়ে স্বামীর হাত ধরে চার দিন ছোটার পর আশ্রয় নেন কুতুপালং শিবিরে।

মোহসেনা বলেন, ‘ছুটতে ছুটতে আমার পা ফুলে উঠেছিল। আমার পেটের নিচের দিক সংকুচিত হয়ে আসছিল।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ঝুপড়িতে আনোয়ারকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন মোহসেনা। শিশু আনোয়ার নির্বাক চোখে নিষ্পাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিল আকাশ। চেনার চেষ্টা করছিল সবকিছু।  মাত্র ১৫ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া মোহসেনা কোনো দিন কল্পনাও করেনি তার কোলের শিশু পৃথিবীটাকে এভাবে চিনবে।

মোহসেনা বলেন, ‘আমরা তড়িঘড়ি করে আমাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসি। আমার ও আমার শিশুর জন্য কোনো জামা-কাপড় নিয়ে আসতে পারিনি। এখন তাকে (আনোয়ার) শুধু একটুকরা কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখি। আনোয়ারের জন্মের পর ৩০ দিন আমার রক্তক্ষরণ হয়। এই ৩০ দিনের জন্য আমাকে দুটি স্যানিটারি প্যাড দিয়েছিল। সেগুলোরই একটি আমি আনোয়ারের বালিশ হিসেবে ব্যবহার করি। তবে তার বিছানা বানানোর জন্য আমার কোনো কাপড় নেই।’

হতাশ চোখে মোহসেনা বলেন, ‘আনোয়ার যখন গর্ভে ছিল, তখন আমার পেটে লাথি দিত। আমি ভাবতাম সে একটি সুন্দর ও শান্তির পৃথিবী পাবে। কিন্তু এখন আমি একটি শরণার্থী শিবিরে আছি। আর এটা কোনো সুন্দর জায়গা না।’

তবে রোহিঙ্গা শিবিরে আনোয়ার একা নয়। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে রয়েছে কমপক্ষে দুই লাখ শিশু। জাতিগত ও ধর্মীয় উগ্রবাদের শিকার এসব শিশুর শৈশব অনিশ্চিত, অন্ধকার সামনে পড়ে থাকা দিনগুলো।

'সবধরনের ভিডিও রেসিপি দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ!'


বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রমণী



সর্বোচ্চ পঠিত

BD Romoni YouTube Channel
To Top