জানা-অজানা

বলছি এক অটোরিকশাওয়ালার কথা, যার মনটাই শুধু মানবিক নয় রোমান্টিকও!

বলছি এক অটোরিকশাওয়ালার কথা, যার মনটাই শুধু মানবিক নয় রোমান্টিকও!

প্রচণ্ড রোদ। বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন দুজন সন্তান। সঙ্গে তাদের মা-ও। মানুষের ঠেলাঠেলির চোটে কোনো যানেই উঠতে পারছেন না তারা। বৃদ্ধ লোকটি বয়সের ভারে ন্যুজ, তারওপর আবার অসুস্থও। ঠিকমতো হাঁটা তো দূরের কথা কথাও বলতে পারছেন না। বাসস্ট্যান্ডে কত শত যাত্রী, কত শত যান- কারোরই নজর নেই তাদের ওপর। এমন সময় নজর পড়ে এক অটোরিকশাওয়ালার। তিনি এগিয়ে এসে তাদেরকে তার অটোরিকশাতে তুলে নেন। প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে তাদের কাছ থেকে ভাড়াও নেন না। বলেন, এটা আমার দায়িত্ব!

আমাদের এনড্রয়েড মোবাইল এপস। বাছাই করা সেরা ১০১ পিঠার রেসিপি। ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুণ!

বলছি, একজন অটোরিকশাওয়ালার কথা।

যার শুধু মনটাই মানবিক নয়, রোমান্টিকও! সেটি প্রামাণ পাওয়া যায় তার অটোরিকশায় চড়ে। বাইরে থেকে আর দশটা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতোই। তবে ভেতরে ঢুকলে ভুলটা ভাঙে। আছে ছোট্ট ফ্যান, আয়না-চিরুনি, পারফিউম, বডি স্প্রে, পাউডার, স্নো, কাজল, ডিজিটাল ঘড়ি, টিস্যু বক্স, ক্যালেন্ডার, কাগজের প্যাড, কলম, পেনসিল, ম্যাগাজিন, টুথপিক, মোবাইলের চার্জার, সাউন্ড বক্স, ট্যাব আর স্যাভলন। আছে চমকে দেওয়ার মতো আরও অনেক কিছু।

ব্যতিক্রমী এই অটোরিকশাওয়ালা হলেন দুলাল। দুলাল চন্দ্র দাস। বছর দেড়েক হলো অটোরিকশাটি কিনেছেন তিনি। বাড়ি সাভারে। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে থাকেন রাজধানীর গাবতলীর ঋশি পাড়ায়। বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ও এক ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আরেক ছেলে ছোট, স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে কেবল।

আজ শুক্রবার (০৬ অক্টোবর) বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির মাঠের পাশে দেখা হয় দুলালের সঙ্গে। দুলাল জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে অটোরিকশা চালান তিনি। বছর দেড়েক হলো নিজে অটোরিকশা কিনেছেন। নিজের মনের মতো করে সেটাকে সাজিয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য অটোরিকশার ছাদে লাগিয়েছেন লোহার নেট। তার নিচে দিয়েছেন তাপ নিরোধক সিলভার পেপার। অটোরিকশার পেছনে লিখেছেন, গরীব রোগীদের জন্য ফ্রি সার্ভিস। দিয়েছেন তার মোবাইল নম্বরও। অটোরিকশাটি সাজাতে হাজার তিনেক টাকা খরচ হয়েছে তার।

ভেতরে এতো কিছু কেন? এমন প্রশ্ন শুনে দুলাল বলেন, এ সব কিছু কারো না কারো কাজে লাগেই। ট্যাব রেখেছি যাতে বাচ্চারা মোটু-পাতলু দেখতে পারে। অনেক বাচ্চা আছে কান্না করে। তাদের জন্য ট্যাব রেখেছি। তা ছাড়া এসব দেখে মানুষ প্রশংসা করে। তাতে আমার ভালো লাগে। অনেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে যায়। পরে ফোন করে যেতে বলে, আমার সিএনজিতে ঘুরে।

গরীব রোগীদের ফ্রি সার্ভিস প্রসঙ্গে দুলাল বলেন, এক সময় আমি অনেক অভাবী ছিলাম। আমার মেয়ের জন্মের পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। নাপা সিরাপ কিনে দিতে পারিনি আমি। তখন সিদ্ধান্ত নেই, আমার অবস্থা বদলাতে আমার মতো যারা গরীব আছে তাদেরকে সাহায্য করবো। অনেক কষ্টে সিএনজিটি কিনেছি আমি। এখন সাধ্যমতো চেষ্টা করি গরীব-দুঃখীদের সাহায্য করতে।

কতজনকে সাহায্য করেছেন? দুলাল বলেন, উদ্যোগটা আমি মাস দেড়েক আগে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত দুজন রোগীকে ফ্রি সার্ভিস দিয়েছি। একজন গাজীপুরের স্টেশন রোড থেকে, আরেজন এলাকার। অনেকেই ফ্রি সার্ভিস নিতে সাহস পায় না। আমি চাই, যারা অসুস্থ অথচ অসহায় তারা যেন আমাকে ফোন দেয়। আমি তাদেরকে ফ্রি সার্ভিস দেবো।

কথা বলার এক পর্যায়ে দুলাল বলেন, চলেন ভাই, আপনাকে চা খাওয়াই। হাতে সময় কম থাকায় চা আর খাওয়া হয়নি আমাদের।  আমি যখন চলে আসবো দুলাল তখন আমার হাতটি ধরে বলেন, পারলে আমাকে একটু হেল্প করেন ভাই। আমি যাতে রোগী নিয়ে মিরপুর, আগারগাঁও ও শেরেবাংলা নগর এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে পারি। বল্লাম, কেন এখন পারেন না? দুলাল বলেন, ট্রাফিক পুলিশ ঝামেলা করে। আমার রেজিস্ট্রেশন তো ঢাকা মেট্রো না।

'সবধরনের ভিডিও রেসিপি দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ!'


বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রমণী



সর্বোচ্চ পঠিত

BD Romoni YouTube Channel
To Top