সংসার

নিজের বউকেই তো মারছি!

আমরাবিবিধ আমরা সংবাদ নিজের বউকেই তো মারছি!
আমাদের এনড্রয়েড মোবাইল এপস। বাছাই করা সেরা ১০১ পিঠার রেসিপি। ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুণ!

পরপর কয়েক রাতেই ঝগড়া থেকে গায়ে হাত তোলার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। পরে মেয়েটির ভাগ্যে কী ঘটেছে, জানতে পারি না। কেননা একটা সময় ঝগড়ার চিৎকার, কান্না থেমে যায়—আমার আশাবাদী মন বোঝায় হয়তো স্বামী নামের পুরুষ নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা থেকে নিজেকে বিরত করেছেন।

‘নিজের বউকে নিজে মেরেছি—কার তাতে কী?’, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার?’ অনেক পুরুষের মুখে এমন কথা শোনা যায়। তাঁরা মনে করেন, বউ মানেই নিজের সম্পত্তি—তাঁর সঙ্গে যেকোনো অন্যায়, অবিচার ও অপরাধ করার অধিকারও তাঁর আছে। চার দেয়ালের ঘর থেকে শুরু করে রাস্তা, পাবলিক প্লেস—সব জায়গায় শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব স্বামীই যেন তা করতে পারেন। সম্প্রতি পুলিশের এক কনস্টেবলকে দেখা গেল রাস্তায় স্ত্রীকে পেটাতে। পথচারীরা পরে কনস্টেবলকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এমন দৃশ্য যেন সমাজের চোখ সওয়া হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত নারীর প্রতি সহিংসতা-সংক্রান্ত জরিপ ২০১৫ অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ বিবাহিত নারী তাঁদের স্বামীর শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হন। যার মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী বলেছেন, তাঁরা স্বামী কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। এ সংখ্যা থেকে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের ব্যাপকতা এবং এর উচ্চপ্রবণতা সহজেই অনুমেয়।

পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই এর মূল কারণ বলে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি বেশির ভাগ স্বামী বিশ্বাস করেন, কারণে বা অকারণে তাঁদের অধিকার আছে স্ত্রীকে শাসন করা বা তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করা।’

আশ্চর্যজনক হলেও কোনো কোনো স্ত্রীও মনে করেন, স্বামী যেহেতু পরিবারের কর্তা এবং ভরণপোষণ প্রদান করেন, সেহেতু তিনি একটু শাসন করতেই পারেন। আমাদের প্রথা, সামাজিক ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টিকে মেনে নিয়েছে, যা এ ধরনের চর্চাকে আরও বেশি উৎসাহিত করছে। ধর্মীয় বিধানের অপব্যাখ্যাও এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন সালমা আলী। আশার কথা হলো, রাষ্ট্রীয়ভাবে ২০১০ সালে প্রণীত পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনে এ ধরনের সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যদিও আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সচেতনতার অভাবে পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা আশানুরূপভাবে কমছে না।

যাঁর সঙ্গে প্রতিদিন পাশের ডেস্কে বসে কাজ করছেন, বাইরে ভদ্র ব্যবহার করেন, তিনিই যে বাড়িতে ফিরে বউকে পেটান বা পেটাতে পারেন—সেটা অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আহমেদ হেলাল মনে করেন, ‘হীনম্মন্যতা ও হতাশা থেকে অনেক পুরুষ এমনটা করেন। সফল মানুষেরা কেন স্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন, এ বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। এর উত্তর হলো শুধু বস্তুগত, বৈষয়িক কারণে স্ত্রীকে পেটান, তা নয়। যৌন জীবনে অসুখী, ব্যক্তিত্ব নিয়ে হীনম্মন্যতা, অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা—এসবের কারণেও স্ত্রীকে পেটান তাঁরা।’

অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকেন, অপরাধ করেন, তাঁরাও এমন করেন। কেউ কেউ রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। রাগের মাথায় বউয়ের গায়ে হাত তোলেন। কোনো কোনো পুরুষ ঈর্ষা থেকে এ ধরনের অপরাধ করেন।

আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজের নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রভাব পরিবারগুলোতে পড়েছে। যে শিশু মা-বাবার ঝগড়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব দেখে বেড়ে ওঠে, বড় হয়ে তার মধ্যেও সঙ্গীকে নির্যাতনের প্রবণতা দেখা দেয়। যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলে, ‘অবজারভেশনাল লার্নিং’। ফলে শিশুকে ছোট থেকেই অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত হলেই নির্যাতন কমবে—পুরোপুরি সঠিক নয়। কেননা রাষ্ট্রের পরিচালনা-পদ্ধতি, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না এলে নারীর যতই ক্ষমতায়ন হোক, ঘরে বা বাইরে তার ওপর নির্যাতন বন্ধ হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এহসান হাবীবের মতে, ‘সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমঅধিকার দিলে, পারিবারিক শিক্ষা সঠিক হলে এই নির্যাতনের হার কমবে।’

সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে গ্রামের এমনকি শহুরে কোনো কোনো নারী মনে করেন, স্বামী গায়ে হাত তুলতেই পারে। স্বামীই তো—একবার লাথি মারবে, আরেকবার বুকে টেনে নেবে। এই ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে আধুনিক  সময়েও ঘরে ঘরে বর্বরতার শিকার হবেন তাঁরা।

'সবধরনের ভিডিও রেসিপি দেখতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুণ!'


বিঃ দ্রঃ মজার মজার রেসিপি ও টিপস, রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি রমণী



সর্বোচ্চ পঠিত

BD Romoni YouTube Channel
To Top